Wednesday, December 16, 2020

বিরোধী বঙ্গবন্ধু ও তথাকথিত মুজিব সেনাদের বিজয়োৎসব | রিফাত নাসরুল্লাহ

Image: bdfashionarchive.com

বর্তমান সময়ে যে কোন জাতীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে একটা সাধারণ মিল হচ্ছে দেশের প্রতিটি এলাকায় উচ্চস্বরে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্প্রচার। আচ্ছা দিন ব্যাপি এই ভাষণ কিংবা বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে রচিত বিভিন্ন গান সম্প্রচার যারা করেন তারা কি শুধু মাত্র আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য করে থাকেন? দায় সারা ভাবে হলেও করা দরকার তাই করতে হবে, বেপারটা কি এমন? নাকি অন্য কোন ইস্যু জড়িত আছে? আর যারা শ্রোতা তাদের কি ২৪ঘন্টায় একবারো মনে হয় না লোকটা কি বলছে ৫মিনিট সময় নিয়ে একটু বোঝার চেষ্টা করি? নাকি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচার হইলে তারা কানে ইয়ারফোন গুজে দেয়?

এদেশের বর্তমান সাধারণ জনগণের কথা উঠলেই শামসুর রাহমানের একটা কবিতা মনে পড়ে যায়, "কান নিয়েছে চিলে....." আমরা বাঙালি জাতি আসলে কি করি নিজেরাই জানি না, কেন করি সেইটাও বুঝি না! আমরা যা কিছু করে থাকি তার বেশির ভাগই হয় লোক দেখে করি নাহয় লোক দেখানোর জন্যে করি। কৃতজ্ঞতাবোধের যায়গা থেকে কাউকে সম্মাননা জানানোর প্রবনতা আমাদের মাঝে কম বরং এর বিপরীত চিত্রের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে গণহত্যার ঘটনায়।

বর্তমান আওয়ামী সরকার ব্যবস্থায় টিভি , নিউস পেপার, টক শো কিংবা স্যোশাল মিডিয়ার দিকে নজর দিলে যতদূর চোখ যায় দৃষ্টি সীমার ভেতরকার ষাট শতাংশ কন্টেন্টই বঙ্গবন্ধু রিলেটেড! বেপারটা ভালো। অন্তত ক্ষ্মতাসীন দল এই স্বাধীন দেশের কারিগরকে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করছে।

তবে অবাক লাগে এবং একই সাথে কষ্ট লাগে যখন দেখি কোটি কোটি মুজিব সেনারা যখন মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনার কথা বলে মুজিবকেই বিক্রি করে দেয় দূর্নীতির হাটে-বাজারে!
লজ্জা লাগে যখন শুনি পচাত্তরের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আকাশ কাপিয়ে চিৎকার করে তিনি যখন বলেন, 'দেশ স্বাধীন করে অন্যেরা পায় তেলের খনি, কেউ পায় সোনার খনি আর আমি পেলাম চোরের খনি!' ভাবতেই লজ্জা লাগে কতটা আফসোস আর কষ্ট নিয়ে তিনি কথাগুলা বলেছিলেন আমাদের উদ্দেশ্যে অথচ এই আমাদের জন্যেই লোকটা জীবনের অর্ধেক সময় পার করে দেন জেল খানার অন্ধকারে। পত্রিকায় প্রকাশিত এই ভাষণের বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির ব্যাখ্যা’ হিসেবে। সদ্য ভূমিষ্ট রক্তাক্ত বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণটি দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা দিবসের শেষ ভাষণ।


Image: দৈনিক সংবাদ, ২৭ মার্চ ১৯৭৫

প্রকৃতপক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান একজন আত্ম সমালোচনায় বিশ্বাসী লোক ছিলেন। তার পরবর্তী বাংলাদেশ এতগুলো সরকারকে পেয়েছে কিন্তু কোন রাষ্ট্রপ্রধানই শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এইভাবে নিজেদের সমালোচনা করতে পারেনি। বিশেষ করে নিজের দূর্বলতা ও অপকর্ম ঢাকবার জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা যেখানে মরিয়া হয়ে উঠেন, সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের এই সাহসী উচ্চারণই প্রমান করে দেয় যে তিনি সাধারণ কেউ নন, অসাধারণ অবিসংবাদিত।
অথচ এই অবিসংবাদিত নেতার পশ্চাদনুসারী হয়েও আজ ভয় হয়, শেষে হেনরি কিসিঞ্জারের ভবিষ্যৎ বাণী মোতাবেক দেশ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত হবে না তো?

এদেশের যতলোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা নিয়ে গলাবাজি করে তার এক দশমাংশ লোকও যদি বঙ্গবন্ধুকে নিজের ভেতর ধারন করতে পারতো, তার কথার মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হতো, সত্যিকার অর্থে তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারতো তাহলে হয়তো আমাদের দেশটা এতোদিনে অন্যরকম হতো। হয়তো রূপকল্প-২০৪১ অনেক আগেই অর্জিত হতো, হয়তো উন্নত দেশের কাতারে থেকে আমরাই এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতাম।

যাইহোক, আজ মুজিবর্ষে বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে যদি সত্যিকার অর্থেই জাতির পিতার প্রতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই, তাহলে এ দেশের প্রতিটি মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এবং দূর্নীতিমুক্ত এই পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের, আপামর জনগনের। বিজয় দিবসের এই দিনে আশা রাখি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আগামীতে একটি দূর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে সকেলেই এক সাথ হয়ে কাজ করবে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।।

© রিফাত নাসরুল্লাহ
খুলনা, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০

পাপেট || রিফাত নাসরুল্লাহ

শী তের শেষ। বরফ গলতে শুরু করেছে। গ্রামের এলোপাথাড়ি রাস্তায় নিজের মনেই খেলাচ্ছলে আশ্রমে ফিরেছিল ৮ বছরের অনাথ শিশু লাল বাহাদুর। অদূরেই রাস্তার...