![]() |
| Image: bdfashionarchive.com |
বর্তমান সময়ে যে কোন জাতীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে একটা সাধারণ মিল হচ্ছে দেশের প্রতিটি এলাকায় উচ্চস্বরে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্প্রচার। আচ্ছা দিন ব্যাপি এই ভাষণ কিংবা বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে রচিত বিভিন্ন গান সম্প্রচার যারা করেন তারা কি শুধু মাত্র আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য করে থাকেন? দায় সারা ভাবে হলেও করা দরকার তাই করতে হবে, বেপারটা কি এমন? নাকি অন্য কোন ইস্যু জড়িত আছে? আর যারা শ্রোতা তাদের কি ২৪ঘন্টায় একবারো মনে হয় না লোকটা কি বলছে ৫মিনিট সময় নিয়ে একটু বোঝার চেষ্টা করি? নাকি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচার হইলে তারা কানে ইয়ারফোন গুজে দেয়?
এদেশের বর্তমান সাধারণ জনগণের কথা উঠলেই শামসুর রাহমানের একটা কবিতা মনে পড়ে যায়, "কান নিয়েছে চিলে....." আমরা বাঙালি জাতি আসলে কি করি নিজেরাই জানি না, কেন করি সেইটাও বুঝি না! আমরা যা কিছু করে থাকি তার বেশির ভাগই হয় লোক দেখে করি নাহয় লোক দেখানোর জন্যে করি। কৃতজ্ঞতাবোধের যায়গা থেকে কাউকে সম্মাননা জানানোর প্রবনতা আমাদের মাঝে কম বরং এর বিপরীত চিত্রের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে গণহত্যার ঘটনায়।
বর্তমান আওয়ামী সরকার ব্যবস্থায় টিভি , নিউস পেপার, টক শো কিংবা স্যোশাল মিডিয়ার দিকে নজর দিলে যতদূর চোখ যায় দৃষ্টি সীমার ভেতরকার ষাট শতাংশ কন্টেন্টই বঙ্গবন্ধু রিলেটেড! বেপারটা ভালো। অন্তত ক্ষ্মতাসীন দল এই স্বাধীন দেশের কারিগরকে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করছে।
অথচ এই অবিসংবাদিত নেতার পশ্চাদনুসারী হয়েও আজ ভয় হয়, শেষে হেনরি কিসিঞ্জারের ভবিষ্যৎ বাণী মোতাবেক দেশ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত হবে না তো?
এদেশের যতলোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা নিয়ে গলাবাজি করে তার এক দশমাংশ লোকও যদি বঙ্গবন্ধুকে নিজের ভেতর ধারন করতে পারতো, তার কথার মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হতো, সত্যিকার অর্থে তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারতো তাহলে হয়তো আমাদের দেশটা এতোদিনে অন্যরকম হতো। হয়তো রূপকল্প-২০৪১ অনেক আগেই অর্জিত হতো, হয়তো উন্নত দেশের কাতারে থেকে আমরাই এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতাম।
সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।।
© রিফাত নাসরুল্লাহ
খুলনা, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০

