বই: মাতাল তরণী
লেখক: হুমায়ুন আজাদ
ধরন: প্রবন্ধ
প্রকাশ: ১৯৯২
১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে 'দেশবন্ধু' নামে একটি সাপ্তাহিকে কলাম লেখা শুরু করেন হুমায়ূন আজাদ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি নিষিদ্ধ হবার গৌরব অর্জন করে। পরবর্তীতে 'পূর্বাভাস' নামে আরেকটি সাপ্তাহিকে নতুন উদ্যমে লেখা শুরু করেন তিনি এবং এটিও পূর্বের ধারা অব্যাহত রেখে আরো একবার লেখককে 'নিষিদ্ধ' হবার গৌরব অর্জনের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে। বছর পাঁচেক পর উক্ত সাপ্তাহিক দুটিতে প্রকাশিত ৩৬ টা 'নিষিদ্ধ' ছোট ছোট প্রবন্ধ একসাথে বই আকারে প্রকাশিত হয়, সেটি 'মাতাল তরণী'
তবে বর্তমান সময় পর্যালোচনা করলে খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এই বই প্রকাশের পর তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল তাকে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে শুধু নিষিদ্ধ করার মধ্যেই কীভাবে সীমাবদ্ধ ছিলো !!! যে দেশে সামান্য ফেসবুক স্টাটাস দেয়ার কারণে বুয়েট পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়ে জীবন দিতে হয়, সে দেশে 'মাতাল তরণী' কীভাবে প্রকাশিত হয় তা বোধগম্য হয় না। আচ্ছা, স্যার যদি বেচে থাকতেন এই সময়েও কি তিনি এরকম আরো কিছু 'মাতাল তরণী' লিখতেন, নাকি বাকি দশ জন 'প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের' মতো নির্বাক থাকতেন?
যাইহোক, প্রশ্ন থেকে যায় অদ্যাবধি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি ধর্মীয় বিষয়াদিগুলা কোন অদ্ভুত উটের পিঠে করে এতদূর এগিয়ে এসেছে এবং এখনো চলছে। একইসাথে এদেশের প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত বুদ্ধিজীবীগণ, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদগণ কোন নিয়মের উপর ভর করে নিয়মিতভাবেই নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন তার একটা পূর্নাঙ্গ আলোচনা-সমালোচনা করা হয়েছে 'মাতাল তরণী' নামের এই বইয়ে।
সময় করে পড়ে নিতে পারেন ১২০ পৃষ্ঠা বইটি যার প্রতিটা পাতায়, প্রতিটা লাইনে মিশে আছে রাষ্ট্র ও এর পরিচালকদের নিয়ে লেখকের বিদ্রুপাত্মক সমালোচনা!
মাতাল তরণী pdf : https://drive.google.com/drive/folders/1T6it_AUwYZott94fGS8zQlU-kUipTrXQ?usp=sharing
© রিফাত নাসরুল্লাহ
খুলনা, ১৬ এপ্রিল ২০২০

No comments:
Post a Comment