Saturday, April 25, 2020

ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য (বুক রিভিউ) ‌|| রিফাত নাসরুল্লাহ



সৃষ্টির শুরু থেকেই একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন ধর্ম ও রাজনীতি একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। রাজনীতিবিদেরা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে পুঁজি করে দূর্নীতি করে চলেছেন দেদারসে আর এসকল দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রনায়কেরাই আবার জনমনে তীব্র ধর্মানুভূতির এক গোপন বীজ রোপন করে গেছেন সুপরিকল্পিত ভাবে। সময়ের পালাবদলে চারা গাছ থেকে পূর্নাঙ্গ বৃক্ষ্যে রূপান্তরিত হয়েছে আমাদের অন্ধ ধর্মানুভূতি। সেই সাথে আমাদের রাজনীতিবিদেরাও পূর্বাপেক্ষা এখন হয়েছেন আরো বেশী সুকৌশলী। জনগনের ধর্মানুভূতির চাদরের আড়ালে তারা  লুকিয়ে রাখছেন নিজেদের দুর্নীতিপরায়ণ কুৎসিত সত্বা। আর এর প্রমান আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ বা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক কিংবা বিগত শতক গুলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়।
এখন কথা হচ্ছে দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রনায়কেদের রুখতে আমরা কি তাহলে  ধর্ম কর্ম সব ছেড়ে দিয়ে কাফির/ মুশরিক দের খাতায় নাম লেখাবো? অবশ্যই না।
'ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য' বইয়ের  কিছু যায়গায় লেখকের সাথে আমি সহমত পোষণ করলেও বাকি কিছু ব্যাপারে একাত্মতা প্রকাশ করতে পারছি না৷ এই যেমন ধরুন,  হুমায়ূন আজাদ স্যার তার এই বইয়ের একটা পরিচ্ছেদে প্রশ্ন তুলেছেন , ধর্ম যুক্তি ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা যেখানে ধার্মিকেরাই বলেছেন ধর্ম চলে বিশ্বাসের উপর, যুক্তি দিয়ে নয়।
এক্ষেত্রে আমি বলবো আপনি যদি কোরআন বুঝে পড়েন তবে আপনিও আমার সাথে একমত হতে বাধ্য থাকবেন যে ইসলাম ধর্ম শুধু মাত্র বিশ্বাসের উপর টিকে নাই, এর প্রত্যেকটা লাইন যুক্তি ও বিজ্ঞান সম্মত যেটা হুমায়ুন আজাদ স্যার হয়তো অনুধাবণ করতে ব্যর্থ হলেও আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা এসব প্রতিনিয়ত প্রমানিত হচ্ছে। 
যাইহোক বইয়ের কিছু কিছু যায়গায় যুক্তি তর্ক থাকলেও বাকি যায়গা গুলো আপনার অন্ধ ধর্মান্ধতার বিষয়টা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে।
পরিশেষে এটাই বলবো যে আপনি যদি ধর্মভিরু হোন তাহলে সমাজ বা রাষ্ট্র কেউই আপনার মাথায় দূর্নীতির কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবে না। রাষ্ট্র চলবে তার নিজস্ব গতীতে, দেশ হবে দূর্নীতিমুক্ত, উন্নত। তবে আপনি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষিত হয়েও যদি সত্যিকারের ধর্মশিক্ষার অভাবে মূর্খের মতো নিজেকে ধর্মান্ধের কাতারে সামিল করেন তাহলে আর দুঃখের সীমা থাকবে না।
ধর্ম ভিরু হন, ধর্মান্ধ নয়।

বই: ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য
 লেখক: হুমায়ুন আজাদ
 ধরন: প্রবন্ধ

ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য pdf : https://drive.google.com/drive/folders/1T6it_AUwYZott94fGS8zQlU-kUipTrXQ?usp=sharing

© রিফাত নাসরুল্লাহ
খুলনা, ২৬ এপ্রিল ২০২০

Monday, April 20, 2020

ওঙ্কার: বুক রিভিউ


বই: ওঙ্কার
লেখক: আহমদ ছফা
ধরন: উপন্যাস

'৬৯ এর আইয়ুব খান বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস 'ওঙ্কার'।
তৎকালীন গ্রামীণ জমিদারি/ তালুকদার প্রথার ইতি টানার মধ্যে দিয়ে গল্পের শুরু। শেষ হয় একদিকে স্বৈরাচার আইয়ুব খানের পতন অন্যদিকে বাকশক্তিহীন এক গৃহবধূর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে দেশের তৎকালীন আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত যে পরিবর্তন হচ্ছিলো তা গল্পটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পটিতে প্রকাশ পেয়েছে বাকশক্তিহীন গৃহবধূর মনের কোনে জমে থাকা কথা বলতে চাওয়ার ব্যাকুলতা; শশুরের কৃপায় বোবা স্ত্রীর মেরুদণ্ডহীন স্বামী হবার অসহায়ত্বও সাবলীলভাবে প্রকাশ পেয়েছে গল্পটিতে।

স্বৈরাচার আইয়ুব খানের শাসনামলে বাক-স্বাধীনতাহীন বঞ্চিত বাঙালির ভেতর সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ হঠাৎ করেই বিস্ফোরিত হয় গণ আন্দোলন ও আসাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। একটা স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে '৬৯ এ যে গণ জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল তার প্রভাব জনমনে কতটা শক্তিশালী ও তীব্র ছিল তা গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র 'বোবা বৌ' এর প্রথম ও শেষ উচ্চারিত 'বাংলা' শব্দের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

ওঙ্কার pdf : https://drive.google.com/drive/folders/1T6it_AUwYZott94fGS8zQlU-kUipTrXQ?usp=sharing

© রিফাত নাসরুল্লাহ 
খুলনা, ২০ এপ্রিল ২০২০

Wednesday, April 15, 2020

মাতাল তরণী: বুক রিভিউ



বই: মাতাল তরণী
লেখক: হুমায়ুন আজাদ
ধরন: প্রবন্ধ
প্রকাশ: ১৯৯২

১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে 'দেশবন্ধু'  নামে একটি সাপ্তাহিকে কলাম লেখা শুরু করেন হুমায়ূন আজাদ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি নিষিদ্ধ হবার গৌরব অর্জন করে। পরবর্তীতে 'পূর্বাভাস' নামে আরেকটি সাপ্তাহিকে নতুন উদ্যমে লেখা শুরু করেন তিনি এবং এটিও পূর্বের ধারা অব্যাহত রেখে আরো একবার লেখককে 'নিষিদ্ধ' হবার গৌরব অর্জনের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে। বছর পাঁচেক পর উক্ত সাপ্তাহিক দুটিতে প্রকাশিত ৩৬ টা 'নিষিদ্ধ' ছোট ছোট প্রবন্ধ একসাথে বই আকারে প্রকাশিত হয়, সেটি 'মাতাল তরণী'

তবে বর্তমান সময় পর্যালোচনা করলে খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এই বই প্রকাশের পর তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল তাকে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে শুধু  নিষিদ্ধ করার মধ্যেই কীভাবে সীমাবদ্ধ ছিলো !!! যে দেশে সামান্য ফেসবুক স্টাটাস দেয়ার কারণে বুয়েট পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়ে জীবন দিতে হয়, সে দেশে 'মাতাল তরণী' কীভাবে প্রকাশিত হয় তা বোধগম্য হয় না। আচ্ছা, স্যার যদি বেচে থাকতেন এই সময়েও কি তিনি  এরকম আরো কিছু 'মাতাল তরণী' লিখতেন, নাকি বাকি দশ জন 'প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের' মতো নির্বাক থাকতেন?

যাইহোক, প্রশ্ন থেকে যায় অদ্যাবধি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি ধর্মীয় বিষয়াদিগুলা কোন অদ্ভুত উটের পিঠে করে এতদূর এগিয়ে এসেছে এবং এখনো চলছে। একইসাথে এদেশের প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত বুদ্ধিজীবীগণ, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদগণ কোন নিয়মের উপর ভর করে নিয়মিতভাবেই নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন তার একটা পূর্নাঙ্গ আলোচনা-সমালোচনা করা হয়েছে 'মাতাল তরণী' নামের এই বইয়ে।

সময় করে পড়ে নিতে পারেন ১২০ পৃষ্ঠা বইটি যার প্রতিটা পাতায়, প্রতিটা লাইনে মিশে আছে রাষ্ট্র ও এর পরিচালকদের নিয়ে লেখকের বিদ্রুপাত্মক সমালোচনা!

মাতাল তরণী pdf : https://drive.google.com/drive/folders/1T6it_AUwYZott94fGS8zQlU-kUipTrXQ?usp=sharing

© রিফাত নাসরুল্লাহ 
খুলনা, ১৬ এপ্রিল ২০২০

পাপেট || রিফাত নাসরুল্লাহ

শী তের শেষ। বরফ গলতে শুরু করেছে। গ্রামের এলোপাথাড়ি রাস্তায় নিজের মনেই খেলাচ্ছলে আশ্রমে ফিরেছিল ৮ বছরের অনাথ শিশু লাল বাহাদুর। অদূরেই রাস্তার...