Tuesday, March 3, 2020

A Lover's Call XXVII | Rifat Nasrullah


কোথায় লুকিয়ে আছো তুমি ?
তুমি কি ওই সুবিশাল জান্নাতের বাগানে?
যেখানে পবিত্র জলে স্নান করাচ্ছো বেহেস্তের সেই ফুলগুলোকে
যারা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তোমার দিকে
ঠিক যেমন নিষ্পাপ শিশু তাকিয়ে থাকে মাতৃস্তন্য পানে ?

নাকি তুমি তোমার কুটিরে
যেখানে পূণ্যের মন্দির তোমার পায়ে নত
যার উপরে আমার আত্ম-সত্ত্বার দিচ্ছো বিসর্জন ?
নাকি পার্থিব কোন জ্ঞানের খোজে বইয়ের ভাজে?
যেখানে আধ্যাতিকতায় তুমি পরিপূর্ণ !

ওহ আমার আত্মার সঙ্গী, কোথায় তুমি?
তুমি কি মন্দিরে কোন দেবীর প্রার্থণায় মগ্ন ?
নাকি প্রকৃতিকে আহ্বান জানাচ্ছো তোমার স্বপ্নের বেহেস্তে ?

তুমিতো স্রষ্টার সেই দ্যুতি যে বিরাজমান সর্বত্র
যে যুগের থেকেও অধিক দৃঢ় ।

তোমার কি মনে আছে সেই দিনের কথা ?
যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিলো আমাদের...
তোমার সত্ত্বার বেড়াজালে বদ্ধ ছিলাম আমরা
আর প্রেমের দেবতা সুরের মুর্ছণায়
আমাদের করেছিলো অভ্যার্থনা !

তোমার কি মনে পড়ে সেই বৃক্ষছায়ার কথা
যেখানে আমাদের প্রথম ঘনিষ্টতা
যা আশ্রয় দিয়েছিলো আমাদের সমগ্র মানবজাতি থেকে
ঠিক যেমন বুকের পাঁজর সযত্নে আগলে রাখে মনের পবিত্র রহস্য !
মনে কি পড়ে  হাতে হাত রেখে গ্রামের সীমা পেরিয়ে
গহীন অরন্যে হেটেচলা ?
আমার কাধে ছিলো তোমার মাথা
ঠিক যেন নিজেদের মাঝে একে অন্যকে লুকিয়ে রাখার প্রবনতা।

সেই মুহুর্তের কথা স্মরণ করো যখন
শেষ বিদায়ের আহ্বান জানিয়েছিলাম তোমায়
আর তোমাকে আমার ঠোঁটে রেখে চুমু খেয়েছিলো সমুদ্র ?
সেই চুমু শিখিয়েছিলো আমায়
ভালোবেসে  দুটি ঠোঁটের সংস্পর্ষেও উচ্চারিত হতে পারে
সেই স্বর্গীয় রহস্য যা জিহ্বাও উচ্চারণে ব্যার্থ !

সেই চুমুতো ছিলো কেবল দীর্ঘশ্বাসের শুরু মাত্র
ঠিক যেন স্রষ্টার প্রশ্বাস
যা মাটিকে রূপান্তর করেছিলো মানুষের আকারে।
সেই দীর্ঘশ্বাস আমাকে নিয়ে যায় আধ্যাত্বিক এক জগতে
জয়ধ্বনি করে আমার সত্বার
আর সেখানে এটাই হবে চিরস্থায়ী
যতদিন না তোমার দেখা পাবো পুনরায়।

আমার মনে পড়ে যখন তুমি আমায় আদর করতে,
ভেজা চোখে উন্মাদের মতো আমায় চুমু খেতে আর বলতে,
" মাটির শরীর তো মাটির কারনেই আলাদা হবে
আর সরাসরি বিভক্ত হবে পার্থিব ইচ্ছার তাড়নায়

"কিন্তু আমাদের আত্তা?
তারা তো নিরাপদেই একত্রিত আছে ভালোবাসার হাতে,
যতক্ষন না মৃত্যুদূত আমাদের একত্রিত আত্তাকে নিয়ে যায় স্রষ্টার কাছে।

আমার অপর সত্তা,  এখন তুমি কোথায়?
তুমি কি রাতের নিরবতায় জেগে আছো?
আমার প্রতিটা হৃদ-স্পন্দনে শান্তা হাওয়া বয়ে যেতে দাও

তোমার স্মৃতির পাতায় আমার মুখ কি এখনো তোমার প্রিয়?
সেই দৃশ্য এখন আর আমার নয়,
দুঃখের জন্যে আমার সুখের মুখচ্ছবি
যে কালো ছায়ায় আবৃত হয়েছিলো।
যে অশ্রুজলে তোমার সৌন্দর্য প্রতিফলিত হতো
তা আজ আমার দৃষ্টিকে করেছে রুক্ষ
আর আমার ঠোটকে করেছে শুষ্ক
যা ছিলো তোমার ঠোটের ছোয়ায় প্রনবন্ত!

ভালোবাসা তুমি কোথায়?
দূর সমুদ্রের ওপার থেকে কি আমার কান্না শুনতে পাও?
বোঝ কি আমার অভাব?
জানো কি আমার ধৈর্যের বিশালতা?

আমার প্রিয় নক্ষত্র তুমি কোথায়?
জীবন আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তার বুকের অন্ধকারে,
দুঃখ আমায় করেছে জয়!

বাতাসে তোমার হাসির পাল তুলে দাও আমার পানে
যেন তারা বাচাতে পারে আমায়,
খোলা হাওয়ায় ছড়িয়ে দাও তোমার সুভাস
যা হবে আমার  বুকভরা নিশ্বাস!

কোথায় তুমি হে প্রিয়?
একবার এসে দেখে যাও,
ভালোবাসা কত বিশাল, আর আমি কতটা ক্ষুদ্র !!


মূলভাবঃ কাহলিল জিবরান
অনুবাদ ঃ রিফাত নাসরুল্লাহ

মার্চ- ৪, ২০২০


No comments:

Post a Comment

পাপেট || রিফাত নাসরুল্লাহ

শী তের শেষ। বরফ গলতে শুরু করেছে। গ্রামের এলোপাথাড়ি রাস্তায় নিজের মনেই খেলাচ্ছলে আশ্রমে ফিরেছিল ৮ বছরের অনাথ শিশু লাল বাহাদুর। অদূরেই রাস্তার...