প্রিয়, নাকি অপ্রিয় নাকি এসবের উর্ধ্বে অথবা নিম্নে? সে বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। কারন আমি জানি তুমি এ সকল তুচ্ছ বিশেষণ থেকে অনেক দূরে। হয়তো এই নশ্বর পৃথিবী থেকে রাতের তারা রা যতো দূরে তার থেকেও অনেক দূরে!! থাক বাদ দাও সে কথা।
অনেকদিন থেকে ভাবছি একটা চিঠি লিখবো। ভেবো না তোমার চিঠির আহবান পেয়ে লিখতে শুরু করেছি। আসলে কাকে লিখবো আর কি লিখবো এটাই ভেবে পাচ্ছিলাম নাহ। সস্তা স্যোশাল মিডিয়ার যুগে চিঠি লিখে/পড়ে সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই কারো। তাছাড়া মানুষ গুলোও বেশ ব্যাস্ত। এদের ব্যাস্ততা দেখে আমার কি মনে হয় জানো? সুখের জন্য অর্থ নাকি অর্থের বিনিময়ে সুখে থাকার অভিনয় এই সুক্ষ বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই এরা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
আমি জানি তুমি এদের মতো নও। তোমাকে অসাধারণ ভাবতে ভালো লাগে তাই তোমাকে লেখা।
আচ্ছা অসাধারন মেয়ে, আজ তোমার মন কেমন? রূপালী জ্যোৎস্নার মতো স্নিগ্ধ? নাকি বিষন্ন? এখনো কি মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে মরে যেতে ইচ্ছে হয় তোমার? আসলে কি জানো, তোমাকে যতোবার আমি বেচে থাকার কথা বলেছি তার থেকেও বহুবার নিজে মরে যাবার কথা ভেবেছি। তবে বিষন্নতার অই রাত গুলোতে যদি ছাদ থেকে লাফিয়ে শুন্যে মিলিয়ে যেতাম অথবা প্রিয় রূপসার ঘোলা জলে নিজের সলিল সমাধি তৈরী করতাম তবে এই চিঠি হয়তো কোনদিনই তোমার পড়া হতো না আর আমিও পেতাম না তোমার মতো এক অকৃত্রিম বন্ধু যে আমার আমিকে খুঁজে পেতে শিখিয়েছে।
আমার বিশ্বাস স্রষ্টা একদিন তোমাকেও পরিপূর্ণ করবেন আর সেদিন তোমারো হাজার বছর বেচে থাকতে ইচ্ছা করবে।
এই নশ্বর পৃথিবীতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়। আমরা যেটাকে বন্ধুত্ব বলি, ভালোবাসা ভাবি, প্রেম মনে করি এসব কিছুই অনেক ঠুনকো। ঘূর্ণায়মান এই পৃথিবীতে সব কিছুই পরিবর্তনশীল তবুও আমরা চাই কিছু জিনিস স্থির থাকুক অথচ দিন শেষে মানুষ বদলায়। মানুষকে বদলে যেতে হয় সময়ের স্রোতে। এই কঠিন সত্যি টা যদি মেনে নিতে পারো সেদিন থেকে তুমি আর খারাপ থাকবে না। আর সেদিন থেকে তোমার থেকেও খারাপ কেও হবে না। কারন পৃথিবীর সব থেকে নির্মম সত্য তুমি আত্মস্থ করতে পেরেছো।
আমি জানি একদিন তুমি আরো শক্ত হবে। একবার যখন নিজেকে ভাংতে পেরেছো তখন ইস্পাতের মতো শক্ত করে গড়ে তুলতেও পারবে। এপিজে আবুল কালাম স্যারের ওই কথাটা মনে আছে? সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে গেলে অবশ্যই তোমাকে সূর্যের মতো পুড়তে হবে। নিজেকে যতো পোড়াবে ততো খাটি সোনা হয়ে উঠবে। হতাশায় ডুবে যেও না। যার নাম দিশা সে নিজেই যদি দিশেহারা হয়ে পড়ে তবে বাকি দের আলোর পথ দেখাবে কে?
আচ্ছা এবার আমার কিছু না বলা কথা বলি। তোমার সাথে যখন আমার প্রথম পরিচয় হয় তখন তুমি আমাকে আর দশ জনের মতোই জেনে এসেছো অথচ আমি জানি তখন আমি কতটা স্বচ্ছ ছিলাম।
এখন তুমি আমাকে যতোটা স্বচ্ছ ভাবো আমি জানি, আমি ঠিক ততোটাই রুক্ষ। ধুলো জমা জরাজীর্ণ একটা ধুসর আয়না। আমি একটা ভালো মানুষ হতে চেয়েছি সব সময় কিন্তু ২২বছর সময় লাগছে আমার এটা বুঝতে যে আমি আসলে একটা অভিশপ্ত ভিলেন। আমি যাদের প্রচন্ডরকম ভালোবেসেছি তাদের কাওকেই আমি ভালো রাখতে পারিনি কখনো। হোক সে আমার পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রেমিকা। আমি যতোবার আলো ভেবে দূরে ছুটে গেছি ততোবারই আধারে ডুবে গেছি। আমি জানি এই অন্ধকার চোরাবালি থেকে আমার মুক্তি নেই। তাই প্রিয় মানুষ গুলা থেকে দূরে থাকি। আমি চাইনা আমার কারনে তারা খারাপ থাকুক।
একটা সময় আমি শুভ্র মানুষ হতে চাইতাম। যে কোন ভালো বেপার আমাকে মুগ্ধ করতো। অথচ ঠিক ততোটাই খারাপ জিনিশ এখন আমাকে আকৃষ্ট করে। যে দেবীর চরনে পরম পবিত্রতায় ফুল দিয়ে এসেছি তার শূন্যস্থানে অপর দেবীর অপবিত্র স্পর্শে এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। অবশ্য মাটির প্রতিমার আর কিই বা ক্ষমতা? ভক্ত নিজেই যদি হয়ে পড়ে ভোক্তা!!
পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্ট মানুষ জেনেও ইভা ব্রাউন ভালোবেসেছিলো হিটলারকে। ইভার মতো না হলেও হাতে গোনা যে দু-চার জন মানুষ সত্যিকার অর্থে আমাকে ভালোবাসে তুমি তাদের মধ্যে একজন। তোমাকে কখনোই বলা হয়নি তোমার মতো একজন স্বচ্ছ মানুষকে বন্ধু হিসাবে পাওয়া কতটা ভাগ্যের ব্যাপার আমার জন্য। সেটা বলতেও চাই না কখনো। কারন আমি জানি প্রচন্ড বিধ্বস্ত অবস্থায় যদি কোন সূর্যদয়ের মুহুর্তেও এসে বলি দিশা আমি ভালো নেই, সেদিনও তুমি আমাকে নিজেকে চিনতে শিখাবে। আলোর পথ বাতলে দিবে। হয়তো তুমি নিজেও জানো না তোমার ভেতর একজন নাইটিঙ্গেল বাস করে।।
ভালো থেকো।।
- যাযাবর 🌼
© রিফাত নাসরুল্লাহ
জুন,০১; ২০২১

No comments:
Post a Comment