Friday, February 21, 2025

পাপেট || রিফাত নাসরুল্লাহ

শীতের শেষ। বরফ গলতে শুরু করেছে। গ্রামের এলোপাথাড়ি রাস্তায় নিজের মনেই খেলাচ্ছলে আশ্রমে ফিরেছিল ৮ বছরের অনাথ শিশু লাল বাহাদুর। অদূরেই রাস্তার বাঁকে কাদা পানিতে কুড়িয়ে পায় একটি  হলুদ রঙের সিংহের পাপেট। সযত্নে তুলে নিয়ে পরিষ্কার করে পাপেটটিকে। আশ্রমে বড় হওয়া লাল বাহাদুরের কাছে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া পাপেট্টিকেই মনে হয় ঈশ্বর প্রদত্ত কোন উপহার। তার শুষ্ক মুখে পাপেট সিংহ মুহূর্তেই হাসি এনে দেয়। ঠিক যে মুহূর্তে লাল বাহাদুর পাপেটটিকে নিয়ে খুশি মনে আশ্রমে ফিরছিলো সে ঠিক একই সময়ে কেউ একজন বিষাদের পূজা করছিলো যার তীব্র যন্ত্রণার সাক্ষী এই পাপেট।

শাফিন নগর হেরিটেজ আর্ট কলেজের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স করছে এখানে। পড়াশোনার পাশাপাশি ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করে। তার আরো একটা পরিচয় আছে, সে একজন ভেন্ট্রিলোকুইস্ট। সহজ ভাবে বলতে গেলে পাপেট হাতে পাপেটের কণ্ঠে কথা বলে লোক হাসানোর একটা খেলা।  এই কাজটা অবশ্য সে শখের বসেই করে। দূরপরবাসে তার ডামি পাপেটটাই তার একমাত্র বন্ধু যার সাথে সে তার ভালোলাগা, খারাপ লাগা প্রতিটা মুহূর্তই শেয়ার করে। সে তার ডামি পাপেট এর একটা নাম দিয়েছে, 'মুফাসা'। 

গেলো সপ্তাহে মল রোডে মুফাসা কে নিয়ে স্ট্রিট শো করছিলো শাফিন। তাকে ঘিরে জড়ো হওয়া পথশিশু ও ট্যুরিস্ট আগ্রহ নিয়ে দেখছিলো তার পারফর্মিং আর্ট। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় প্রিয়ন্তির। প্রিয়ন্তি মানালিতে বেড়াতে এসেছে। অতি রূপবতী এই তরুণী শাফিনের ভেন্ট্রিলোকুইজমে মুগ্ধ হয়ে পরিচিত হতে এসে জানতে পারে শাফিন নিজেও বাংলাদেশি এবং দ্রুতই তাদের ভেতর গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। বিয়াজ রিভার, ন্যাচার পার্ক থেকে শুরু করে সোলাং ভ্যালি সবকিছু ঘুরিয়ে দেখায় শাফিন। মানালীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় প্রিয়ন্তি আর আটলান্টিকের নীল জলরাশির মতো প্রিয়ন্তির নীল চোখে ঠাঁই হারায় শাফিন। শাফিন তার ভালোবাসার কথা জানাতে চায় প্রিয়ন্তিকে। আমন্ত্রণ জানায় ডিনারের, সঙ্গে নিয়ে আসে একটা প্রোপোজাল রিং। অতি যত্নে যখন প্রিয়ন্তির আঙ্গুলে রিং পড়ানোর জন্য তার হাতের গ্লবস টা টেনে খুলে ফেলে তার চোখ আটকে যায় প্রিয়ন্তির অনামিকায় থাকা ওয়েডিং রিং এ। শাফিন আর কিছুই বলতে পারে না। প্রিয়ন্তিকে নিয়ে দেখা তার স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। নিঃশব্দে দ্রুত উঠে যায় শাফিন, আড়াল করে নেয় নিজেকে। শাফিনের অপ্রত্যাশিত আচরণে কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও অদৃশ্য একটা টান অনুভব করে প্রিয়ন্তি। এই অনুভূতির নাম জানা নেই তার তবে ফেরার আগে শেষবারের জন্যে হলেও একবার  দেখা করতে চায় শাফিনের সাথে।


ন্যাচার পার্কের এক কোনায় পাইন গাছের ছায়ায় জড়সড় হয়ে বেঞ্চে বসে আছে শাফিন। দুপুর গড়িয়ে এখন বিকাল, পশ্চিমাকাশে হেলে পড়া সূর্যের সোনালি আভায় চারপাশ চিকচিক করছে। উত্তরের হিমশীতল বাতাসেও শাফিন দিব্যি বসে আছে যেন মানালীর ঠান্ডা তাকে স্পর্শ করছে না। তার নিশ্চুপ শীতল চোখ শুধু মাত্র এক জোড়া হাতের অপেক্ষায় যে হাতের স্পর্শে মুহূর্তেই বিগলিত হয়ে যাবে হিমালয়ের সমস্ত হিমশৈল, যে হাতের একটু স্পর্শ পেলেই থেমে যেতো তার বুকের ভেতর চলতে থাকা সাইবেরিয়ান ঝড়। বিক্ষিপ্ত চিন্তা ভাবনায় শাফিন যখন ঘোরের ভেতর ধীর পায়ে প্রিয়ন্তি এসে তার পাশে বসে। তার চোখ নির্লিপ্ত। দুজনের মস্তিষ্কে হাজারো কথা জমে আছে অথচ সামনে এসে বলা হলো না কিছুই। দীর্ঘক্ষনের নিরবতা ভেঙে শাফিন তার ডামি পাপেট মুফাসা কে তুলে দেয় প্রিয়ন্তির হাতে। প্রিয়ন্তি কিছুই বলে না, নিশ্চুপেই উঠে আসে। শেষবেলায় শাফিন কে সে তার ভেজা চোখ দেখাতে চায় না। 


বিয়াজ রিভারের কোল ঘেঁষে পাথুরে রাস্তা ধরে প্রিয়ন্তির গাড়ি ছুটে চলছে। রাস্তার ঝাঁকিতে ব্যাগ থেকে কখন যে মুফাসা গাড়ির জানালা দিয়ে পড়ে যায় প্রিয়ন্তি জানতেও পারে না। শাফিনের দেয়া শেষ স্মৃতিটাও রাস্তার কাদা জলে মিশে যায়। হয়ত এটাই ছিল নিয়তি। হয়ত প্রকৃতি চায়নি কোন পিছুটান থেকে যাক। হয়ত এ কারণেই শাফিনের দেয়া শেষ ভালোবাসার সাক্ষর প্রিয়ন্তির হাত বদল হয়ে লাল বাহাদুর নামের এক ছোট্ট বালকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। লাল কোনদিনই জানবে না শাফিন প্রিয়ন্তির এই অব্যক্ত ভালোবাসার গল্প। হয়ত শাফিন প্রিয়ন্তি নিজেরাও একদিন ভুলে যাবে তাদের এই অসঙ্গায়িত অনুভূতির কারণ। কালের অতলে তলিয়ে যাবে না পাওয়ার আক্ষেপ। ফরাসি দার্শনিক ও গণিতবিদ এমিলি দ্যু শাতলে প্রথমবার বলেছিলেন, শক্তির যেমন ক্ষয় নেই, ধ্বংস নেই কেবল এক রূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হয়। ঠিক তেমনি আমাদের জীবন চলার পথ। আমাদের পছন্দ, প্রিয় বস্তু কিংবা ভালোবাসার মানুষ কোন কিছুই চিরন্তন নয়। সময়ের প্রয়োজনে ভালোবাসা হারিয়ে যাবে একইভাবে সময়ের টানেই ফিরে আসবে। হয়তো ভিন্নরূপে, ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন হাতে, নতুন মোড়কে।।


গল্পকারঃ রিফাত নাসরুল্লাহ

মুলভাবনাঃ শিরোনামহীন

Friday, December 13, 2024

স্মৃতিতে হেলাল হাফিজ ।। রিফাত নাসরুল্লাহ

সালটা ২০১৫/১৬, সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রেখেছি। হাতে তখন অঢেল সময়। আড্ডা ঘোরাঘুরি করেই দিন কাটছিলো। আর সুযোগ পেলেই চলে যাইতাম ঢাকায় ছোট মামার কাছে। সে শুধু আমার মামা না, আমার বন্ধু, মেন্টর, অতি পছন্দের একজন মানুষ। আমার ব্যাক্তিগত জীবনে যার প্রভাব সীমাহীন। হুমায়ুন আহমেদের হিমুর মতো আমরাও ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে সারাদিন-রাত হেটে বেড়াতাম আর কলা খাইতাম। সে সময় পাকা কলা এবং রং চা ছিলো আমাদের জাতীয় খাবার।

যাইহোক, মামার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পরিচিত হই শিল্প, সাহিত্য, স্থাপত্য, ফাইন আর্টস সর্বোপরি আমার চেনা জগতের বাইরে পৃথক এক দুনিয়ার সাথে এবং এই ভদ্রলোকের প্ররোচনায় তখন টুকটাক বই পড়া শুরু করি। সে আমাকে বই সরবরাহ করতো আমি সেগুলো পড়ে তাকে বুক রিভিউ লিখে পাঠাতাম। আহমেদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ কিংবা দস্তয়েভস্কির মতো কাল জয়ী লেখকের লেখার সাথেও পরিচয় মামার মাধ্যমে।

তো মামা একদিন একটা বই সাজেস্ট করলো, যে জ্বলে আগুন জ্বলে || হেলাল হাফিজ আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই লোক আবার কে? মামা শুধু বললো, তুই পড়... আমি বইটা সংগ্রহ করে পড়লাম, প্রচণ্ড মুগ্ধ হলাম। ইতঃপূর্বে যে সব কবির লেখা পড়েছি সে সবের মূল বক্তব্য ছিলো প্রেম, বিরহ কিংবা বিদ্রোহ। হেলাল হাফিজ এই এক জায়গাতে ছিলেন বাকি সবার থেকে আলাদা। তার প্রেমে ছিলো যুদ্ধের দামামা, তার বিদ্রোহে ছিলো ভালবাসার আকুলতা। প্রচলিত বস্তা পচা কবিতার ছক থেকে বের হয়ে তিনি যা সৃষ্টি করলেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমি শুধু পড়ে গেলাম। নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়, ইচ্ছে ছিলো, অশ্লীল সভ্যতা কিংবা ফেরিওয়ালা পড়তে পড়তে একটা পর্যায়ে মনে হলো আমার নিজেরও কিছু লেখা উচিৎ। হেলাল হাফিজের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে শুরু করলাম তুমুল লেখালেখি। বস্তা পচা সেসব কবিতার একমাত্র পাঠক এবং সমালোচক ছিলেন মামা।  মামাকে প্রায়ই বলতাম হাফিজের মতো একদিন আমিও একটা বই লিখবো যে বই হবে 'যে জলে আগুন জ্বলে'র আদলে। এবং সেই বই এর ভূমিকা লিখবেন আপনি আর প্রচ্ছদ উন্মোচন করবে আমার সাহিত্য গুরু কবি হেলাল হাফিজ। 

তারপর কেটে গেলো কয়েকটা বসন্ত। আমার জীবনেও ঘটলো হাওয়া বদল। জীবনের বাস্তবতায় ব্যাস্ত হয়ে লেখালেখিতে ভাটা পড়লো। বই লেখার কাজও থেকে গেলো অসমাপ্ত। মামা এখন বিলাতে ব্যাস্ত, শিল্প সাহিত্য নিয়ে আলাপ হয় যৎসামান্য। যেই হেলেনের বিচ্ছেদ হাফিজকে বানিয়ে ছিলো কবি তেমনই এক হেলেনের সাথে আমার প্রণয়ের পূর্ণতা যখন দ্বারপ্রান্তে তখনই আচমকা শুনলাম কবি আর নেই! কি অসীম শুন্যতা, কি অবাস্তব নিস্তব্ধতা, কি অসম্ভব নিঃসঙ্গতা!! হেমন্তের উজ্জ্বল শীতল চাঁদ যখন মধ্য গগনে জ্যোৎস্না ছড়াতে ব্যস্ত, খুব নিভৃতে হাফিজ অসীমের পথে যাত্রা করলেন অথচ আমরা জানতেও পারলাম না বাংলা সাহিত্যের হেলাল চিরতরে ডুবে গেলো অবহেলা, আক্ষেপ আর বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সঙ্গে নিয়ে চিরতরে। 

সব শেষে এটাই বলতে চাই; গুরু, এ জীবনে আপনার সাথে আর দেখা হলো না তবে গুরুদক্ষিণা হিসাবে আমার অসমাপ্ত বইটা এবার শেষ করবো আপনাকে উৎসর্গ করে। প্রেম ও দ্রোহের উর্ধে অচেনা কোন এক ভুবনে হয়তো আমাদের দেখা হবে, সেদিন আপনাকে আমার কবিতা আবৃত্তি করে শুনাবো। ততোদিন পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট বুকে চেপে শুধুই অপেক্ষা। আপনিই তো বলতেন, 'বেহিসেবি মনের খরচে খরচ হয়ে যাবো একদিন, তোমার নামে বাকি থাকবে ছোট্ট একটা ঋণ' অথচ আপনার এ ঋন শোধ করার ক্ষমতা স্রষ্টা আমাদের দেন নাই। অন্য  ভুবনে ভালো থাকবেন প্রিয় কবি।

১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

Saturday, July 3, 2021

দূরত্ব । রিফাত নাসরুল্লাহ

Long-distance relationship (moon and mermaid) by Leo Mendes

কিছু অনুভূতি জমা রেখে একদিন আমাদেরও হারিয়ে যেতে হবে কিছু ভুল অনুভূতি পুঁজি করে, হয়তো ফেরা হবে না, জানা হবে না, ভুল করে হলেও চেনা হবে না অতি চেনা কোন প্রতিচ্ছবি। যৌক্তিক জটিলতায় যতোই বেড়ে চলেছে সামাজিক দূরত্ব, দুর্নিবার শারীরিক কিংবা মনঃস্তাত্ত্বিক আকর্ষনে ঠিক ততোই যেন কাছে পাওয়ার এক তুমুল আকাঙ্ক্ষা ভর করছে আমায়। হয়তোবা আমাদের। সময়ের সমান্তরালে দূরে যেতে হয় কাছে আসার জন্যে হলেও দূরে যেতে হয় ভালোবেসে হলেও দূরে সরে যেতে হয়। জন্মান্তর যদি সত্যি হয় দেখা হবে আমাদের পুনরায়। নতুবা একেশ্বরবাদীদের মতো 'রোজ কেয়ামত'-এ বিশ্বাসী হয়ে চিৎকার করে বলবো, "পুলসিরাত এর এপারে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, জাগতিক সকল দূরত্বকে দূরে ঠেলে এক বার ছুটে আসো" ।। © রিফাত নাসরুল্লাহজুলাই, ০২, ২০২১ ( সন্ধ্যা ৭'টা)

Thursday, July 1, 2021

Fiction MMXXI - I | Rifat Nasrullah

 


প্রিয়, নাকি অপ্রিয় নাকি এসবের উর্ধ্বে অথবা নিম্নে?  সে বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। কারন আমি জানি তুমি এ সকল তুচ্ছ বিশেষণ থেকে অনেক দূরে। হয়তো এই নশ্বর পৃথিবী থেকে রাতের তারা রা যতো দূরে তার থেকেও অনেক দূরে!! থাক বাদ দাও সে কথা।
অনেকদিন থেকে ভাবছি একটা চিঠি লিখবো। ভেবো না তোমার চিঠির আহবান পেয়ে লিখতে শুরু করেছি। আসলে কাকে লিখবো আর কি লিখবো এটাই ভেবে পাচ্ছিলাম নাহ। সস্তা স্যোশাল মিডিয়ার যুগে চিঠি লিখে/পড়ে সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই কারো। তাছাড়া মানুষ গুলোও বেশ ব্যাস্ত। এদের ব্যাস্ততা দেখে আমার কি মনে হয় জানো? সুখের জন্য অর্থ নাকি অর্থের বিনিময়ে সুখে থাকার অভিনয় এই সুক্ষ বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই এরা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
আমি জানি তুমি এদের মতো নও। তোমাকে অসাধারণ ভাবতে ভালো লাগে তাই তোমাকে লেখা।

আচ্ছা অসাধারন মেয়ে, আজ তোমার মন কেমন? রূপালী জ্যোৎস্নার মতো স্নিগ্ধ? নাকি বিষন্ন? এখনো কি মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে মরে যেতে ইচ্ছে হয় তোমার? আসলে কি জানো, তোমাকে যতোবার আমি বেচে থাকার কথা বলেছি তার থেকেও বহুবার নিজে মরে যাবার কথা ভেবেছি। তবে বিষন্নতার অই রাত গুলোতে যদি ছাদ থেকে লাফিয়ে শুন্যে মিলিয়ে যেতাম অথবা প্রিয় রূপসার ঘোলা জলে নিজের সলিল সমাধি তৈরী করতাম তবে এই চিঠি হয়তো কোনদিনই তোমার পড়া হতো না আর আমিও পেতাম না তোমার মতো এক অকৃত্রিম বন্ধু যে আমার আমিকে খুঁজে পেতে শিখিয়েছে।
আমার বিশ্বাস স্রষ্টা একদিন তোমাকেও পরিপূর্ণ করবেন আর সেদিন তোমারো হাজার বছর বেচে থাকতে ইচ্ছা করবে।  

এই নশ্বর পৃথিবীতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়। আমরা যেটাকে বন্ধুত্ব বলি, ভালোবাসা ভাবি, প্রেম মনে করি এসব কিছুই অনেক ঠুনকো। ঘূর্ণায়মান এই পৃথিবীতে সব কিছুই পরিবর্তনশীল তবুও আমরা চাই কিছু জিনিস স্থির থাকুক অথচ দিন শেষে মানুষ বদলায়। মানুষকে বদলে যেতে হয় সময়ের স্রোতে। এই কঠিন সত্যি টা যদি মেনে নিতে পারো সেদিন থেকে তুমি আর খারাপ থাকবে না। আর সেদিন থেকে তোমার থেকেও খারাপ কেও হবে না। কারন পৃথিবীর সব থেকে নির্মম সত্য তুমি আত্মস্থ করতে পেরেছো।

আমি জানি একদিন তুমি আরো শক্ত হবে। একবার যখন নিজেকে ভাংতে পেরেছো তখন ইস্পাতের মতো শক্ত করে গড়ে তুলতেও পারবে। এপিজে আবুল কালাম স্যারের ওই কথাটা মনে আছে? সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে গেলে অবশ্যই তোমাকে সূর্যের মতো পুড়তে হবে। নিজেকে যতো পোড়াবে ততো খাটি সোনা হয়ে উঠবে। হতাশায় ডুবে যেও না। যার নাম দিশা সে নিজেই যদি দিশেহারা হয়ে পড়ে তবে বাকি দের আলোর পথ দেখাবে কে?

আচ্ছা এবার আমার কিছু না বলা কথা বলি। তোমার সাথে যখন আমার প্রথম পরিচয় হয় তখন তুমি আমাকে আর দশ জনের মতোই জেনে এসেছো অথচ আমি জানি তখন আমি কতটা স্বচ্ছ ছিলাম।
এখন তুমি আমাকে যতোটা স্বচ্ছ ভাবো আমি জানি, আমি ঠিক ততোটাই রুক্ষ। ধুলো জমা জরাজীর্ণ একটা ধুসর আয়না। আমি একটা ভালো মানুষ হতে চেয়েছি সব সময় কিন্তু ২২বছর সময় লাগছে আমার এটা বুঝতে যে আমি আসলে একটা অভিশপ্ত ভিলেন। আমি যাদের প্রচন্ডরকম ভালোবেসেছি তাদের কাওকেই আমি ভালো রাখতে পারিনি কখনো। হোক সে আমার পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রেমিকা। আমি যতোবার আলো ভেবে দূরে ছুটে গেছি ততোবারই আধারে ডুবে গেছি। আমি জানি এই অন্ধকার চোরাবালি থেকে আমার মুক্তি নেই। তাই প্রিয় মানুষ গুলা থেকে দূরে থাকি। আমি চাইনা আমার কারনে তারা খারাপ থাকুক।
একটা সময় আমি শুভ্র মানুষ হতে চাইতাম। যে কোন ভালো বেপার আমাকে মুগ্ধ করতো। অথচ ঠিক ততোটাই খারাপ জিনিশ এখন আমাকে আকৃষ্ট করে। যে দেবীর চরনে পরম পবিত্রতায় ফুল দিয়ে এসেছি তার শূন্যস্থানে অপর দেবীর অপবিত্র স্পর্শে এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। অবশ্য মাটির প্রতিমার আর কিই বা ক্ষমতা? ভক্ত নিজেই যদি হয়ে পড়ে ভোক্তা!!

পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্ট মানুষ জেনেও ইভা ব্রাউন ভালোবেসেছিলো হিটলারকে। ইভার মতো না হলেও হাতে গোনা যে দু-চার জন মানুষ সত্যিকার অর্থে আমাকে ভালোবাসে তুমি তাদের মধ্যে একজন। তোমাকে কখনোই বলা হয়নি তোমার মতো একজন স্বচ্ছ মানুষকে বন্ধু হিসাবে পাওয়া কতটা ভাগ্যের ব্যাপার আমার জন্য। সেটা বলতেও চাই না কখনো। কারন আমি জানি প্রচন্ড বিধ্বস্ত অবস্থায় যদি কোন সূর্যদয়ের মুহুর্তেও এসে বলি দিশা আমি ভালো নেই, সেদিনও তুমি আমাকে নিজেকে চিনতে শিখাবে। আলোর পথ বাতলে দিবে। হয়তো তুমি নিজেও জানো না তোমার ভেতর একজন নাইটিঙ্গেল বাস করে।।

ভালো থেকো।।
- যাযাবর 🌼

© রিফাত নাসরুল্লাহ 
জুন,০১; ২০২১

Thursday, May 13, 2021

বেশ্যার সুখ । রিফাত নাসরুল্লাহ

অলিম্পিয়া (১৮৬৩), এডোয়্যার্ড মনেট
বাঁচিলে শরীর পুরুষ খাবে
মরিলে খাইবে পোঁকে
রহস্যে মোড়া শরীরে চেপে
মনের খবর কে রাখে! 

শরীর ছুঁইলে পাপ হবে কও
নিজেই সাজো পাপী
নিশী রাইতে পাপ লুটেরার
খবর রাখে কাজী?

পাপ-পূন্যের মালিক তুমি 
তুমিই সমাজপতি
দিনের আলোয় বেশ্যা ডাইকা 
রাইতে বানাও দেবী!

শরীর কেনো কড়ি দিয়া
মন কিনিবা কিসে?
মনের দামে দুঃখ বেচি
সুখ নাহি মোর মিলে
বন্ধু, সুখ নাহি মোর মিলে।। 

১৪.০৫.২০২১ (ভোর ৫টা তিন)

Saturday, May 1, 2021

ফ্যাসিলিটি-১৩৯১ । রিফাত নাসরুল্লাহ


খুন লেগে আছে  খুনির চোখে, 
বিকৃত মস্তিষ্ক, নির্বিকার অশ্রুতে।

রক্ত গঙ্গায় ভেসে যায় একটি শরীর,
একটি সভ্যতা
যার ইতিহাস আজ বিলীন হচ্ছে 
ক্ষুধার্ত ভূগর্ভে!

খুন হয়েছে আজ একটি প্রাণ,
একটি ভালোবাসা
নিথর দেহে চলছে আর্তনাদের মিছিল!

ছবিঃ সংগ্রহীত (ফ্যাসিলিটি-১৩৯১, গুয়ান্তানামো বে)

থামো। এ পৃথিবী আজ খুনিদের আবাস
রক্তাক্ত সূর্যোদয়ে্র এ দেশ কোন মানুষের
হতে পারে না।

এখানে গণতন্ত্র নিষিদ্ধ, স্বাধীনতা নিষিদ্ধ
এখানে ভালোবাসা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল!


বেরিকেড দাও শবযাত্রায়
গুয়ান্তামোতে বন্দি করো মৃতের চিৎকার,
মুছে দাও তার ঠোটে লেগে থাকা
প্রেমিকার স্পর্শ কিংবা
শ্রমিকের শক্ত পেশীতে লেপ্টে থাকা
রক্তে ভেজা ধুলো। 

উপড়ে ফেলো চোখ,
ধ্বংস করো মৃতের হৃদপিন্ড
নতুবা তার চোখ সাক্ষ্য দিবে হত্যার বিবরণ,
নতুবা তার হৃদপিন্ডের ব্যাবচ্ছেদে
বেরিয়ে আসবে কোন বিশ্বাসঘাতকের
মিথ্যে প্রেমের গল্প !!


©রিফাত নাসরুল্লাহ
পহেলা মে, ২০২১

Monday, April 19, 2021

ফরাসি বিপ্লবের ইতিবৃত্তি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট | রিফাত নাসরুল্লাহ



ফরাসি বিপ্লব
অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ সাল ১৭৮৬; বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন লর্ড কর্নওয়ালিস। ভারত বর্ষের স্বাধিনতার সূর্য অনেক আগেই অস্তমিত হয়েছে আর পশ্চিম আকাশে যেটুকু রক্তিম আভা অবশিষ্ট ছিলো তাও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ওয়ারেন হেস্টিংস এর 'রেগুলেটিং এক্ট' আইন পাশের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণরূপে অবসান ঘটে। বাংলা পরিনত হয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের কেন্দ্র বিন্দুতে। শাসন বললে ভুল হবে 'শোষন' শব্দটাই এখানে অধিকতর মানানসই। হেস্টিংস পরবর্তী কর্নওয়ালিস শাসনামলে জারীকৃত দশসনা আইন পরবর্তীতে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে' রূপান্তরিত হয়। আর এই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' আইনের মধ্যে দিয়ে জমির মালিকানা যখন কৃষক হতে জমিদারদের হাতে চলে যায় ঠিক একই সময়ে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দাবীতে উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ভার্সাই নগরীর অধিকার বঞ্চিত দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের খাদ্যের দাবীতে গর্জে ওঠে প্যারিসের রাজপথ, আকাশ, বাস্তিল দূর্গ। বর্জোয়া শ্রেণীর নেতৃত্বে শতবছরের নির্জাতিত, নিপীড়িত সাধারন ফরাসি নাগরিকদের নিয়ে গঠিত হয় 'নাগরিক গার্ড' নামক একটি সামরিক বাহিনী আর এই নাগরিক গার্ডের আক্রমণেই পতন ঘটে ফরাসী রাজতন্ত্রের প্রতিক 'বাস্তিল দুর্গ' এবং এরই মধ্যে দিয়ে শুরু হয় 'ফ্রেঞ্চ রেভুলিউশন তথা ফরাসি বিপ্লব' যা মানব ইতিহাসে রচনা করে এক নতুন অধ্যায়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্ত। 'গণতন্ত্র' শব্দটি হয়ে ওঠে আরো অধিক অর্থবহ।



বঙ্গ সন্তান জামরঃ লুই দ্য বেনোয়া
লুই বেনোয়া জামর
সাল ১৭৭৩। ফরাসি সম্রাট পঞ্চদশ লুই এর অতিপ্রিয় উপপত্নি মাদাম বারির(১৭৪৩-১৭৯৩) ঘর আলো করেন কৃষ্ণকায় বালক 'জামর'। জামর সম্রাট লুই এর ঔরসজাত ছিলেন না, তিনি ছিলেন চিটাগং এর এক দরিদ্র বঙ্গ সন্তান! তৎকালীন ইংরেজ দাস ব্যাবসায়ীদের হাতে ধরা পড়া ১১ বছরের বালক জামরকে জাহাজ যোগে পাচার করা হয় মাদাগাস্কার সেখান থেকে ফ্রান্স। রাজা লুই কয়েক জোড়া পশুপাখির সাথে জামরকেও ক্রয় করেন এবং উপঢৌকন হিসেবে প্রেরন করেন মাদাম বারির নিকট। জামরের শিশুসুলভ আচরন মাদামের মাতৃসত্বা জাগিয়ে তোলে এবং পুত্রস্নেহে বুকে টেনে নেন পরম মমতায়। মাদাম বারির ঘরেই রেশম আর মসলিনের আবরনে বড় হতে থাকেন জামর। খ্রীস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার পাশাপাশি সম্রাটের উপাধি যুক্ত করে জামরের নতুন নামকরন করা হয় 'লুই বেনোয়া জামর'। হতদরিদ্র বঙ্গসন্তান ধীরে ধীরে ফরাসি রাজ পরিবারে বিলাসিতায় বেড়ে ওঠেন এবং পরিনত হন ভার্সেই বাসির চোখের মনিতে। 

ফরাসি লেখিকা ইভ রুজিয়ের বই 'লো রেভ দ্য জামর' থেকে জানা যায় রাজকীয় বিলাসিতায় শৈশব থেকে তারুন্যে পদার্পন করেন জামর এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন রাগী ও মেজাজী। মিশরীয় ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই ফারাও রাজাদের অত্যাচার যখন সীমাহীন পর্যায়ে উপনীত হয় এবং ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ফেরাউন যখন নিজেকেই স্বয়ং 'আল্লাহ' বলে দাবী করেন তখন তার ঘরেই প্রতিপালিত হতে থাকেন নবী মূসা(আ:) যিনি পরবর্তীতে তার অনুসারী সহ স্বৈরাচারী একনায়ক শাসক ফেরাউনকে পরাজিত করে মিশরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। একই চিত্র দেখা যায় অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে ফরাসি বুরবো রাজতন্ত্রে। ফরাসি রাজপরিবারের সদস্য হয়েও নবী মূসার মতোই রাজাদের দুঃশাসন ও ক্ষমতার অপব্যাবহারের ঘোরতর বিরোধী ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন জামর। ধ্রুপদী ফরাসি সাহিত্য ও দর্শনে আগ্রহী হবার সুবাদে তার সাথে পরিচয় ঘটে আরেক মহান দার্শনিক ও ফরাসি বিপ্লবের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা রুশোর 'লা কস্তা সশ্যাল' বইয়ের। চূড়ান্ত রাজনৈতিক স্বেচ্ছসাচারিতা আর নিপীড়িত বিপর্যস্থ ফরাসি সমাজ ব্যবস্থায় তিনিই প্রথম উল্লেখ করেন 'ম্যান ইজ বর্ন ফ্রী বাট এভরিহ্যোয়ার হী ইজ ইন চেইন অর্থাৎ মানুষ জন্মগত ভাবেই স্বধীন, কিন্তু সমাজ তাকে শৃঙ্খলিত করে রাখে'। স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রে তীব্র সমালোচনা করে লেখা 'এমিল' বইয়ে তিনি সাম্য, স্বাধিনতার যে ধারনা দেন পরবর্তীতে তা জামর, রোবস্পিয়র সহ শতশত বিপ্লবীর জন্ম দেয় এবং বিপ্লবের এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ শুধু ফ্রান্স নয় ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। সমগ্র ইউরোপের পট পরিবর্তন করতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ভলতেয়ার, মন্তেস্কু, রুশো সহ প্রভৃত লেখকের রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি তথা দর্শন।



ধর্ম ও রাজনীতি
সৃষ্টির শুরু থেকেই একটু খেয়াল করলে আমরা দেখতে পাই ধর্ম ও রাজনীতি একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। রাজনীতিবিদেরা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে পুঁজি করে দূর্নীতি করেন দেদারসে আর এসকল দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রনায়কেরাই আবার জনমনে তীব্র ধর্মানুভূতির এক গোপন বীজ রোপন করেন সুপরিকল্পিত ভাবে। সময়ের পালাবদলে চারা গাছ থেকে পূর্নাঙ্গ বৃক্ষ্যে রূপান্তরিত হয় এসকল অন্ধ ধর্মানুভূতি। সুকৌশলী রাষ্ট্রনায়কগন জনগনের এই ধর্মানুভূতির চাদরের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন নিজেদের দুর্নীতিপরায়ণ কুৎসিত সত্বা। এর প্রমান আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ বা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক কিংবা বিগত শতক গুলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়।
অগাসবার্গের চুক্তির মধ্য দিয়ে ফ্রান্সেও মুক্তধর্ম চিন্তার পথ রহিত হয়। রাজার ধর্মই প্রজার ধর্ম নীতি চালু হবার ফলে রোমান ক্যাথলিক বুরবো রাজতন্ত্রে প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদে বিশ্বাসীরা পড়েন চরম বিপাকে। চারিদিকে জোরপূর্বক ক্যাথলিক খ্রীস্টধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য করা হয় 'থার্ড স্টেট' তথা তৃতীয় শ্রেণীর সাধারন মানুষদের। এর সুফল লাভ করে দিন দিন আরো স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন রাজা এবং দূর্নীতি ও অত্যাচারী হয়ে ওঠে যাজক শ্রেনী। রাজা ষোড়শ লুই এর পদচ্যুত মন্ত্রী 'নেকার' এর বর্ণনা থেকে জানা যায় তৎকালীন ফ্রান্সের মোট ভূমির ২০ শতাংশের মালিকানা ছিলো গির্জা তথা প্রথম শ্রেণীর যাযকদের হাতে তবে সুবিশাল ভূ-সম্পদের জন্য তাদের কোন কর দিতে হতো না। ১৫৬১ সালে পোইসির চুক্তি অনুসারে যাজকেরা গির্জার ভূ-সম্পত্তির ওপর স্বেচ্ছা কর দিত। রাজা কোনো কর ধার্য করতে পারতেন না। উপরন্তু অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগের পাশাপাশি গরীব কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের এক দশমাংশ ধর্মকর, মৃত্যু কর ও নামকরন কর হিসাবে গীর্জার যাজক সম্প্রদায় গ্রহন করতো। ফলশ্রুতিতে যাজক শ্রেনী দিন দিন ধনী ও কৃষকেরা আরো বেশী হতদরিদ্র হয়ে পড়ে।

রাজা চতুর্দশ লুই

অপর দিকে ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই ধর্মকে পুঁজি করে ফরাসি রাজতন্ত্রকে একটি স্বৈরতন্ত্রী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। বুরবো রাজারা 'Divine right monarchy' তে বিশ্বাসী ছিলেন। অর্থাৎ তারা মনে করতেন ঈশ্বর রাজাকে ক্ষমতায় নিযুক্ত করেছেন ফলে তারা ঈশ্বর ছাড়া আর কারও কাছে দায়ী নন। ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা নীতির উপর ভিত্তি করে চতুর্দশ লুই ফরাসী রাজতন্ত্রকে সর্বময় ক্ষমতার আধারে পরিণত করেন। রাজার এই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি একসময়ে মন্তব্য করেন- “The state, it is myself” –রাজাই হলেন রাষ্ট্র। রাজা পঞ্চদশ লুই এর মতে, "A king is accountable for his conduct only to to God" একই মতাদর্শে বিশ্বাসী রাজা ষোড়স লুই তার আত্মজীবনীতে লেখেন, "Kings are absolute masters and as such have a natural right to dispose of everything belonging to their subject" বুরবো রাজারা তাদের ক্ষমতাকে সর্বময় করার জন্য ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সভা স্টেট জেনারেলের অধিবেশন ১৬১৪ সালে বন্ধ করে দেন। ঐতিহাসিক শেভিল এ ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, "স্টেটস জেনারেলের অধিবেশন বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ লোকেরা তাঁদের অসুবিধা ও অভিযোগের কথা রাজার নিকট পৌঁছাতে পারত না। এর ফলে বুরবো রাজতন্ত্র বৃহত্তর জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়"।

রাজাদের এসকল ধর্মভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলে শুরু হয় বর্বর সামন্তপ্রথা আর প্রকৃত ক্ষমতা ধীরেধীরে পুঞ্জিভূত হতে শুরু করে যাজক ও অভিজাত শ্রেণির হাতে। স্বৈরাচারী ও দুর্নীতি গ্রস্থ এ সকল ইনটেন্ডেন্ট কর্মচারীগন নিজদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য হয়ে ওঠে চরম অত্যাচারী। 'লেতর দ্য ক্যাশে' নামক গ্রেফতারি পরোয়ানার সাহায়্যে তারা যেকোন সাধারণ মানুষকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখতে পারতো। ফলে বাস্তিল দুর্গ একসময় নিরপরাধ বন্দিতে পূর্ণ হয়ে যায়। দার্শনিক ভলতেয়ার এই সীমাহীন রাজনৈতিক সংকটের কারণে ফ্রান্সকে ‘রাজনৈতিক কারাগার’ বলেও অভিহিত করেন।



নারীঃ সভ্যতার জননী ও ধ্বংসের কারিগর
বিগত সত্তুর হাজার বছরের মানব ইতিহাসে যতো উত্থান পতন এসেছে তার প্রত্যেকটি তে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সভ্যতার গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে জাতি, সমাজ, রাষ্ট্র বিনির্মানে পুরুষের পাশাপাশি নারী যেমন সরব অংশ গ্রহন করেছেন একই ভাবে অনেক জাতি, সামাজ, রাষ্ট্র ধ্বংসের পেছনেও দায়ী এই নারী। আদি মানবী ইভের মূর্খতার কারনে যেমন আজ আমরা স্বর্গচ্যুত তেমনি শূর্পনখার হিংসার বিষবাষ্পে রাম-রাবণের যুদ্ধে পুড়ে ছারখার হয়েছিলো গোটা লঙ্কা! ট্রয় নগরী ধ্বংসের পেছনেও দায়ী ছিলেন একজন নারী। মহাকবি হোমারের 'ইলিয়ড এন্ড অডেসি' তে বর্ণিত গ্রীক দেবরাজ জিউস ও নেমেসিসের কন্যা 'হেলেন' এর সৌন্দর্যের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিলো ট্রয় নগরী। ধ্বংস হয়েছিলো একটি উন্নত সভ্যতা। আবার মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দিগবিজয়ী হবার ইতিহাসও আমাদের অজানা নয়। বাঙ্গালী জাতি হিসাবে আমরা কতটা সৌভাগ্যবান বা দুর্ভাগা তা নির্ণয় করে বলা মুশকিল। আমাদের এই গরীব দেশে আমরা রানী হেলেনের মতো রূপসী শাসক পেয়েছি আবার রাণী ক্লিওপেট্রার মতো দৃঢ় অগ্নিকন্যাও পেয়েছি। অদৃশ্য এক রোলার কোস্টারে চড়িয়ে তারা যেমন আমাদের উন্নতির চরম শিখরে আকাশ ছোয়া স্বপ্ন দেখিয়েছেন তেমনি উন্নতির স্বর্ণদ্বার হতেও বারবার ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন দূর্নীতির অতল খাদের গভীরে। 
'পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা' অপবাদটি মাথায় নিয়েও পুরুষ জাতি সর্বদাই কোমলমতি এসকল নারীদের দোষত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আসছেন। গুগলে একধিক কী-ওয়ার্ড সার্চ দিয়েও নারীর তেমন আশানুরূপ নিকৃষ্ট /বিধ্বংসী কর্মকান্ডের হদিস বের করতে ব্যার্থ হয়েছি। উইমেন ইম্পাওয়ারমেন্টের এই যুগে নারীর সাফল্যগাথার আড়ালে মাটিচাপা পড়ে আছে তাদের সমস্ত অন্ধকার ইতিহাস। ফরাসি আন্দলন পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত করেছে আর এই মহান বিপ্লবের পেছনে নারীর ভূমিকা থাকবেনা এটা অবিশ্বাস্য।

৫ অক্টোবর, সাল ১৭৮৯। বিপ্লবের আগুনে উত্তপ্ত ফ্রান্সের রাজপথ। মুক্তির দাবীতে যখন ফ্রান্সের ঘরে ঘরে বিপ্লবের অগুন জ্বলছে ভার্সাই রাজপ্রাসাদ তখন যেন ঐশ্বর্যের ইন্দ্রপুরী। ক্ষুধার যন্ত্রনায় ক্রন্দনরত শিশুর চিৎকার তখনো ভার্সেই রাণীর হেরেমের প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি। প্যারিস থেকে খাদ্যের দাবিতে 'হাঙ্গার মার্চ অব দ্য ওমেন ভার্সাই' তথা মহিলাদের ভুখামিছিল যখন ভার্সেই রাজপ্রাসাদের কাছে পৌঁছে রুটির দাম কমানোর দাবি জানায় তখন রানী মেরি অ্যান্টয়নেট অবাক হয়ে মিছিলের দিকে তাকিয়ে জানতে চান, এরা কী চায়? তার সহচরী উত্তর দেন, এরা রুটির দাম কমাতে বলছে, রুটি চায়। রানী অবাক হয়ে বললেন, রুটি কেন? এরা কেক খেতে পারে না! প্রকৃতপক্ষে রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরে বিলাস ব্যসনে ব্যস্ত রানী অ্যান্টয়নেট নিজ দেশের সাধারণ মানুষের জীবন সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি।

ফরাসি রাজতন্ত্রের সব থেকে দূর্বল দিক ছিলো রাজ দরবার থেকে শুরু করে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনে রাণীদের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ। ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের পর বুরবো বংশে সুযোগ্য শাসকের অভাব দেখা যায়। ঐতিহাসিক শোভেলের মতে রাজা পঞ্চদশ লুই ছিলেন “বিলাসী, রমণীরঞ্জন, প্রজাপতি রাজা” (Butterfly Monarch)। তিনি ছিলেন পরিশ্রমবিমুখ এবং তার উপপত্নী মাদাম দ্যু পম্পাদ্যুরের দ্বারা প্রভাবিত। ষোড়শ লুই সৎ এবং সদিচ্ছাপরায়ণ হলেও তিনিও ছিলেন তার সুন্দরী গর্বিতা পত্নী অস্ট্রিয়ার রাজকুমারী মেরী অ্যানটোনেটের বশীভূত। রাণীরা ছিলেন অদূরদর্শী, বিলাসী ও খামখেয়ালি। ফলে তাদের মতের সাথে অমিল হওয়ায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ হতে বহিষ্কৃত হন অনেক যোগ্য ব্যাক্তি। ১৭৮৯ সালে ফ্রান্স যখন দুর্ভিক্ষের চরমে তখন দৈন্যদশাগ্রস্থ ফরাসি অর্থনীতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভুত হন অর্থনীতিবিদ 'নেকার'। ক্ষমতাসীন হয়ে তিনি নতুন কর-নীতি প্রণয়ন করেন ফলে একদিকে যেমন তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের চোখের মণি অপরদিকে তিনি অভিজাত শ্রেনীর ষড়যন্ত্রের শিকার হন অনতিবিলম্বে। রাণীর প্ররোচনায় রাজা ষোড়শ লুই তাকে মন্ত্রী থেকে পদচ্যুত করে ফ্রান্সের দুর্দিন আরো ঘনীভূত করেন। একই ভাবে রাণীর প্ররোচনায় বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ 'তুর্গো'কেও মন্ত্রীত্ব থেকে অপসারণ করেন। ফলে অপরিনামদর্শী মূর্খ রাণীর স্বেচ্ছাচারিতা ও অভিজাত শ্রেনীর স্বার্থন্বেষীতায় ফরাসি অর্থনীতি নতুন করে যে সংকটে পড়ে তা ফরাসি বিপ্লবকে করে তোলে আরো বেগবান। বুরবো রাজাদের এই ব্যক্তিগত অযোগ্যতার কারনে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা ধীরেধীরে অভিজাত শ্রেণীর হস্তগত হয়ে পড়ে, রাজা হন ক্ষমতা শুন্য জড়পুত্তলী। 

ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হবার পেছনে যেমন রাণীদের স্বেচ্ছাচারীতা দায়ী তেমনিভাবে ফরাসি বিপ্লব সফল করে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ফরাসি নারীদের ভূমিকাও অপরিসীম। তবে ফরাসি বিপ্লবে যে নারীর অবদান সবথেকে বেশী তিনি মেরী ওলস্টোনক্রাফট। অগ্নিশিখা ও অশ্রুবিন্দুর সমন্বয়ে গড়া এই নারী শুধুমাত্র ফরাসি বিপ্লব নয়, পুরুষতান্ত্রের ইতিহাসেও প্রথম বিপ্লবী নারী। কার্ল-মার্ক্স যেমন সমাজতন্ত্রে জন্মদাতা তেমনি মেরী হয়েছেন 'নারীবাদ' এর প্রসূতি। ১৭৯১ সালে তিনি লেখেন 'ভিন্ডিকেশন অফ দ্য রাইটস অফ ওম্যান' আজ থেকে প্রায় আড়াইশো বছর পূর্বে তার এই বইটিই ছিলো কট্টর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীমুক্তির দাবীতে লেখা প্রথম বই। মেরী তার ভিন্ডিকেশন উৎসর্গ করেছিলেন ফরাসি বিপ্লবী নেতা ট্যালিরাদের নামে। ভেবেছিলেন নারীশিক্ষা আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখবেন ট্যালিরাদ তবে মেরীর বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ বিপ্লবীরাও বিপ্লব পরবর্তীতে নারীর অধিনতায় বিশ্বাসী নাহয়ে বেছে নেয় পুরুষতন্ত্র। মেরীর আশা পর্যবসিত হয় হতাশায়। মেরী সফল বিপ্লবী হলেও তার সমাজে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি তবে তার কালজয়ী ভিন্ডিকেশনকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে গড়ে ওঠে নারীবাদের বিভিন্ন ধারা।



ম্যাক্সিমিলান রোবস্পিয়র
নিরীহ জনগনের উপর ক্ষমতাসীন শাসকের অত্যাচার যখন সীমা অতিক্রম করে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নিরস্ত্র সাধারণ মানুষও তখন হয়ে ওঠে চিতা বাঘ অপেক্ষা ক্ষিপ্র, পারমানবিক বোমা থেকেও হয়ে ওঠে অধিক শক্তিশালী বিষ্ফোরক। বিপ্লব ছাড়া স্বাধিনতা অর্জন অসম্ভব তবে বিপ্লব পরিচালনা আর রাষ্ট্র পরিচালনা জিনিশ দুটি এক নয়। খুব কম বিপ্লবী নেতাই আছেন যারা ক্ষমতাসীন হবার পর যোগ্য রাষ্ট্র নায়ক হতে পেরেছেন। ক্ষমতার লোভ  সংবরণ করার ক্ষমতা সবার থাকে না আর যাদের থাকে তাদের মানুষ বললে ভুল হবে তারা মহামানবের পর্যায়ে পড়েন। জাতি হিসাবে আমরা দূর্ভাগা কারন আমরা এখন পর্যন্ত কোন মহামানব তুল্য রাষ্ট্রপ্রধান পাই নি। আমাদের পূর্ববর্তী নেতা যারা ছিলেন তাদের বেশীরভাগই ছিলেন ক্ষমতালোভী। সারাজীবন যে লোকের সততায় মুগ্ধ হয়ে যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যখনই যার মাথায় রাষ্ট্রের মুকুট পড়িয়েছি কোন এক অদ্ভুত কারনে ক্ষমতা লাভের পর সেই নেতাই তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষে শয়তানের পায়ে নিজের মাথার তাজ সঁপে দিয়েছেন। মূর্তমান আদর্শ বিপ্লবী থেকে হয়ে উঠেছেন বিলাসিতায় মগ্ন অত্যাচারী এক শয়তান!
পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের সরকার প্রধান অং সান সু চি যিনি গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে সংগ্রাম করার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দী ছিলেন, যিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পান। সেই মমতাময়ী নারী যখন ক্ষমতা লাভ করেন তার সামরিক বাহিনী শুধু মাত্র ধর্মকে কেন্দ্র করে ২৫০০+  রোহিংগা অধিবাসী হত্যা করে!!  তবে কি আমরা ধরে নিবো যে, গণতন্ত্রের মুখোশ পড়া এই সু চি প্রকৃতপক্ষে পুজিবাদের একজন গুপ্ত হন্তারক? 
ম্যাক্সিমিলান রোবস্পিয়র

সু চি'র মতোই এমন এক বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিলো ১৭৫৮ সালের ৬মে ফ্রান্সের আরাসে। ছোটবেলা থেকেই দুর্দান্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নিলেও অসামান্য মেধার জোরে প্যারিস ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ পেয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৭৮৯ সালে আরাসের স্টেট জেনারেল নির্বাচিত হওয়া এই ব্যাক্তি তার সততা, আদর্শ ও নিষ্ঠার কারনে সাধারণ জনগনের নিকট 'দ্যা ইনকরাপটেবল' নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ফ্রান্সের অলিতে গলিতে ফরাসিবাসীর ত্রাণকর্তা হিসাবে উচ্চারিত হতে থাকে তার নাম। স্বল্প সময়ের ভেতর বিপ্লবী 'জ্যাকবিন ক্লাবের' অন্যতম প্রধান ব্যাক্তিতে পরিনত হন তিনি। মার্ক্সবাদী বিশ্বাসী এই বিপ্লবী  যুবকের নাম, ম্যাক্সিমিলান রোবস্পিয়র।
১৪ই জুলাই ১৭৮৯।  কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের  খাদ্যের দাবীতে উত্তপ্ত প্যারিসের রাজপথ। বিক্ষোভ ঠেকাতে জনতার বিপক্ষে রাজা সেনা মোতায়েন করলেও উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে সসৈন্য সরে দাড়ান সেনা অধিনায়ক। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সাধারণ মানুষের হাতে। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন আরো বেগবান হয়।  কোণঠাসা হয়ে পড়ে ফরাসি রাজ পরিবার।।
চলবে......

পাপেট || রিফাত নাসরুল্লাহ

শী তের শেষ। বরফ গলতে শুরু করেছে। গ্রামের এলোপাথাড়ি রাস্তায় নিজের মনেই খেলাচ্ছলে আশ্রমে ফিরেছিল ৮ বছরের অনাথ শিশু লাল বাহাদুর। অদূরেই রাস্তার...